মধ্যরাতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় শাহজালালের শিক্ষার্থীরা

2

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপু ম‌নির ভার্চ্যুয়াল আলোচনা চলছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের ১২৯ নম্বর কক্ষে বসে এ আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সৌরভ চাকমা। সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী জানান, আন্দোলনকারী ও অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি‌নি‌ধি হি‌সেবে আট সদস্যের একটি দলের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর ভি‌ডিও কনফারেন্সে বৈঠক হচ্ছে।

রাত পৌনে একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা। এ সময় উপ‌স্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠ‌নিক সম্পাদক শ‌ফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জা‌কির হোসেন। পরে আলোচনায় যোগ দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠ‌নিক সম্পাদক বিধান কুমার সাহা।এর আগে শনিবার রাতেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনায় বসার অনুরোধ জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই তাঁরা (শিক্ষার্থীরা) অনশন প্রত্যাহার করুক, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। এখন যদি অনশনরত অবস্থাতেও বসতে চায় তাও করতে পারে। যেকোনো সমস্যার একমাত্র সমাধান আলোচনা। কাজেই আমরা আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চাই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দ্বার সব সময়ই উন্মুক্ত।’

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সা‌ব্বির আহমদ জা‌নান, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের প্রতি‌নি‌ধি দলের সঙ্গে শ‌নিবার রাতেই অনলাইনে আলোচনার বিষয়ে সম্ম‌তি প্রকাশ করেছেন।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে উত্তাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ গত বুধবার উপাচার্যের বাসার সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন ২৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরের দিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে এখন ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বাকি ৮ শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালায়। পরের দিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাঁদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। ওই হামলার প্রতিবাদে ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, খুলনা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।