ইয়েমেনে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের কারণে হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুরা জীবন্ত কংকালে পরিনিত হচ্ছে!!

0
115
  • এই আধুনিক পৃথিবীতেও কিছু নির্দয় অহংকারী জালিম শাসক গোষ্ঠীর অবোরধের কারনে ইয়েমেনে চরম পর্যায়ের খাদ্যের অভাবে প্রতি ঘন্টায় ছয় জন নিস্পাপ শিশুর করুন মৃত্যু হচ্ছে!! ইতিমধ্যেই দুর্ভিক্ষ চরম ভাবে গ্রাস করেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের বেশিরভাগ এলাকা। তীব্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় নিষ্পাপ শিশু গুলো জীবন্ত কংকালে পরিনত হচ্ছে ।

সৌদি আরবের টানা অবরোধের কারণে ইয়েমেনে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতক নিষ্পাপ শিশুদেরও করুন মৃত্যু ঘটছে বলে জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ইয়েমেনের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রী তাহা আল-মুতাওয়াকেল। সৌদির যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। তাতে প্রতি ঘণ্টায় ছয়জন শিশু প্রান হারাচ্ছে। মাজলুম নির্যাতিত ইয়েমেনের মুসলিমদের আবেদন, আমরা বিশ্ববাসীর কাছে শিশুদের জন্য খেলনা এবং ভিডিও গেমস চাই না, আমরা শিশুদের বাঁচানোর জন্য ইনকিউবেটর এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য সামগ্রী চাই। সৃষ্টিকর্তার এই পৃথিবীতে আমাদের শিশুদেরও বাঁচার অধিকার আছে।

ইয়েমেনের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রী তাহা আল-মুতাওয়াকেল আরো বলেন, আমাদের শিশুদের জন্য মায়াকান্না বন্ধ করুন। ইয়েমেনের এই করুণ ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উল্লেখযোগ্য তেমন ভালো কিছু করতে দেখিনি। নির্দয় সৌদি আরবের আগ্রাসন ও তাদের ভয়াবহ বোমার বিস্ফোরণের কারণে ভীত হয়ে প্রতিবছরই পাঁচ হাজার ইয়েমেনি শিশু ট্রমায় আক্রান্ত হচ্ছে।

ইয়ামেনের বিদ্রোহীরা ২০১৪ সালে ইয়েমেনের তদানীন্তন রাজধানী দখল করে নিলে সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বাঁধে। তখন থেকেই ইয়েমেনে ভয়াবহ বোমা হামলা শুরু করে সৌদি আরবের বিমানবাহিনী। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান-এর মতো বেশ কয়েকটি আরবদেশের বিমানবাহিনীও।

ওই বোমা হামলায় হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশু সহ অনেক ইয়েমেনি নাগরিকের করুন ভাবে নিহত হয়। ঘরহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়া ও জাতিসংঘ এবং যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়াবহ যুদ্ধেই মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।এই ভয়াবহ কৃত্রিম খাদ্য সঙ্কট তৈরি করে খাদ্য হীন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ ইয়েমেনি মুসলিমদের।

জাতিসংঘ বলছে, ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি যখন ক্রমেই ভয়াবহ অবনতির দিকে যাচ্ছে, তখন বিশ্ববাসীর যেন সেদিকে নজরই নেই।

ইয়েমেন থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সমন্বয়ক জেমি ম্যাকগোল্ডরিক বিভিন্ন গণমাধ্যম কে বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তার অভাবে দেশটিতে এখন শিশুরা তিব্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় করুন ভাবে মৃত্যুবরণ করতে শুরু করেছে।

দেশটির পুরো অবকাঠামো চরম ভাবে ভেঙে পড়েছে, এবং ইয়েমেনের অর্ধেক জনগোষ্ঠীই বেঁচে থাকার অবলম্বন হারিয়ে ফেলেছে।

মি. ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, এখন পুরো বিশ্ববাসীর উচিত ইয়েমেনকে সাহায্য না করবার জন্য অনুতপ্ত ও দুঃখিত হওয়া।

সৌদি আরব সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সরকারের সাথে ইয়েমেনের হুতি এবং বিদ্রোহী সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ্ সালেহ এর অনুসারীরা দীর্ঘ সময় এক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।

ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার দরুন ইয়েমেনে পণ্যবাহী জাহাজ প্রবেশের উপর সৌদি আরবের বিধিনিষেধ রয়েছে, ফলে সেখানে খাদ্য সাহায্য সরবরাহের সুযোগ খুবই সীমিত।

এই ভয়াবহ করুন পরিস্থিতিতে ইয়েমেন ধীরে ধীরে দুর্ভিক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে আরো একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম।

এই সংস্থাটি সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

একই সাথে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ধারপান্তে থাকা ইয়েমেনের জন্য খাদ্য সহায়তা বাড়াতে।৷ এখন আমারা দেখার অপেক্ষায় >আন্তর্জাতিক মহল কতটুকু কি করেন।             রিপোর্টার, ভোরের লিখা নিউজ )

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে