এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর মধ্যে-এক মাএ আল্লাহর প্রিয় গোলাম হওয়ার মধ্যেই-মানূষের জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা।

0
60

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহতুল্লাহ্।প্রিয়।পাঠকবৃন্দ যে মানুষ দুনিয়ার মধ্যে সৃষ্টি জগতের মালিক এক আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন কে সন্তুষ্ট করতে পারল। সে অবশ্যই দুনিয়া ও আখেরাতের পরিপূর্ণ সফলতা অর্জন করল! পক্ষান্তরে”যে বান্দা দুনিয়ার মধ্যে সব কিছুই পেল। কিন্তু মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারলো না”সে কিছুই পেলোনা! সুতরাং সে পরকালের স্থায়ী সফলতা থেকে বঞ্চিত হলো! আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন এই দুনিয়ার মধ্যে আমাদের কে সৃষ্টি করেছেন এক মাএ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। কিন্তু আমরা কতটুকু মহান আল্লাহ্ কে সন্তুষ্ট করতে পেরেছি। বরং আজ আমরা মহান আল্লাহ্ এবং পরকালের জীবন কে ভুলে গিয়ে দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছি!!অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের কে দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হওয়া থেকে সতর্ক করেছেন!! রাসূলুল্লাহ্(ﷺ)বলেছেন নিশ্চয়ই দুনিয়া হচ্ছে সবুজ-শ্যামল চাকচিক্যপূর্ণ!!আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাদেরকে এই দুনিয়ার মধ্যে প্রতিনিধিত্ব দান করেছেন। তিনি দেখবেন”তোমারা দুনিয়ার মধ্যে এসে কি করো এবং কেমন আচরণ করো!! অতঃপর রাসূলুল্লাহ(ﷺ)বলেছেন,তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকো এবং সাবধান থাকো!!রাসূলুল্লাহ(ﷺ) দুনিয়ার ব্যাপারে আমাদেরকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছেন!!হায় আফসোস!! অথচ আজ আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্ কে ভুলে গিয়ে চিরস্থায়ী আখেরাতকে ভুলে গিয়ে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে আছি!!এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন এই দুনিয়ার মূল্য যদি আল্লাহ্ তাআলার কাছে একটি মাছির ডানার সমপরিমাণ ও হতো,তাহলে আল্লাহ্ তাআলা দুনিয়ার মধ্যে কোন কাফেরকে এক ঢোক পানি ও পান করার সুযোগ দিতেন না!!হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার উদাহরণ হচ্ছে অথৈ সমুদ্রের মধ্য থেকে আঙ্গুলে উঠে আসা এক ফোঁটা পানির মতো, রাসূলুল্লাহ(ﷺ)বলেছেন দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরদের জন্য ভোগবিলাসের জায়গা। রাসূলুল্লাহ(ﷺ)আরো বলেন তুমি দুনিয়াতে একজন অপরিচিত লোকের নেয় অথবা একজন মুসাফিরের মত বসবাস করো, এবং তুমি তোমার‌ নিজেকে কবরের অধিবাসী মনে করো। রাসূলুল্লাহ(ﷺ)দুনিয়ার এই ধন-সম্পদকে ফেতনার সামগ্রি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন নিশ্চয়ই প্রত্যেক জাতির জন্য প্রত্যেক উম্মতের জন্য কিছু ফেতনার সামগ্রী ছিল,আর আমার উম্মতের জন্য ফেতনার সামগ্রী হচ্ছে দুনিয়ার এই ধন-সম্পদ, রাসূলুল্লাহ(ﷺ)বলেছেন জেনে রেখো এই দিনার-দিরহাম-স্বর্ণ-রৌপ্য টাকা-পয়সা তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছিল,এগুলি তোমাদেরকে ও ধ্বংস করে ছাড়বে,রাসূলুল্লাহ(ﷺ)সত্যিই বলেছেন!‌!এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া আমাদের ও ধ্বংস করে ছাড়ছে!! প্রিয়।পাঠকবৃন্দ->আমরা সকলেই দেখতে পাচ্ছি যে,এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জন্য ভাই ভাইকে খুন করছে!এই তুচ্ছ দুনিয়ার জন্য কলিজার টুকরা সন্তান তার মা-বাবাকে খুন করছে!!এই তুচ্ছ দুনিয়ার জন্য মা-বাবা তার কলিজার টুকরো সন্তানকে খুন করছে!এই তুচ্ছ দুনিয়ার সামান্য সময়ের ভোগ-বিলাসের জন্যে একে অপরকে অন্যায় ভাবে হত্যা করে আনন্দ উল্লাস করছে!!এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সামান্য সময়ের সুখের জন্য মানুষ আজ কতরকম অশ্লীলতা ও বেহায়াপনায় নিমগ্ন হয়ে আছে!!হায় আফসোস!!আজ আমারা আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ্ কে ভুলে গিয়ে এই ক্ষণস্থায়ী তুচ্ছ দুনিয়ার ভোগ-বিলাস আর আরাম-আয়েশের জন্য কতই না স্বপ্ন দেখি!!অথচ এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ছেড়ে একদিন আমাদের সকলকে চলে যেতে হবে মৃত্যুর সেই তিক্ত স্বাদ আমাদের সকলকেই গ্রহণ করতে হবে! এবং দুনিয়া ও আখিরাতের একমাত্র মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঘোষণা অনুযায়ী অচিরেই এই অস্থায়ী রঙ্গিন পৃথিবীর আসমান জমিন সহ সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে!!পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের দিকে লক্ষ্য করে বলেন,

یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ فَلَا تَغُرَّنَّکُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا ٝ
*وَ لَا یَغُرَّنَّکُمۡ بِاللّٰہِ الۡغَرُوۡرُ

হে->দুনিয়ার মানুষ সকল-নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা
সত্য সুতরাং দুনিয়ার জীবন যেন তোমাদেরকে
কিছুতেই প্রতারিত না করে! দুনিয়ার জীবন যেন
তোমাদেরকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে!!
( সূরা-ফা’তির আয়াত-৫)
প্রিয়। পাঠকবৃন্দ আসুন আমরা সকলেই আল্লাহ্ রব্বুল
আলামিনের কাছে আমাদের পূর্বের সমস্ত গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে অন্তরের অন্তস্থল থেকে খালেস নিয়তে তাওবা করে আমাদের দয়াময় প্রতিপালক আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফিরে আসি,অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই->অসীম দয়াময় মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন আমাদের সমস্ত গুনাহ্ সমূহকে মাফ করে তার প্রিয় গোলাম হিসেবে আমাদের কবুল করে নিবেন। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা মুমিন বান্দাদের উদ্দেশ্য করে বলেন,

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ تَوۡبَۃً نَّصُوۡحًا ؕ عَسٰی
رَبُّکُمۡ اَنۡ یُّکَفِّرَ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَ یُدۡخِلَکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۙ یَوۡمَ لَا یُخۡزِی اللّٰہُ النَّبِیَّ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ ۚ نُوۡرُہُمۡ یَسۡعٰی بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَ بِاَیۡمَانِہِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ
*اَتۡمِمۡ لَنَا نُوۡرَنَا وَ اغۡفِرۡ لَنَا ۚ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা
কারো–বিশুদ্ধ তাওবা(১)সম্ভবত তোমাদের রব
তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে,যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত।সেদিন আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না নবীকে এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে। তাদের
নূর তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে।তারা বলবে হে আমাদের রব!আমাদের জন্য আমাদের নূরকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন,নিশ্চয়
আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান,
(সূরা আত-তাহ্’রিম আয়াত-৮)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে খালেস নিয়তে তাওবা করে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের প্রিয় গোলাম হওয়ার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করার তৌফিক দান করুন,আমীন আমীন আমীন)

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে