পবিত্র রমজান মাসের মূল্যায়ন এতো বেশি হওয়ার কারণ আমল এবং ফযিলত

Category: islamic subject Posted by:
আসসালামু আলাইকুম আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালো আছেন আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ, আমি ওয়াছিক ইবনে হাফিজ বিডিটিপস২৪ এ এটা আমার প্রথম পোস্ট আর আজকে আমি আলোচনা করবো রমজান মাসের মূল্যায়ন এতো বেশি হওয়ার কারণ আমল এবং ফজিলত সম্পর্কে অবশ্য আরো আগে এই পোস্ট টি করার দরকার ছিলো, কিন্তু ব্যাস্ততার কারনে করতে পারিনি। তো চলুন প্রথমে জেনে নেই রমজান মাসের মূল্যায়ন এতো বেশি হওয়ার কারণ

১| রোযা এবং তারাবীর মাস।
২| কুরআনুল কারীম অবতীর্ণের মাস।
৩| মুসলিম উম্মাহর সর্বোত্তম মাস।
৪| রহমতের মাস।
৫| জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মাস।
৬| দো’আ কবুলের মাস।
৭| বহুগুণ সওয়াব বৃদ্ধির মাস।
৮| পাপ মোচনের মাস।
৯| লাইলাতুল কদরের মাস।

রমজান মাসের আমল সমূহ

রোযা
রোযা শব্দটি মূলত ফার্সী শব্দ। যার আরবী হলো ‘আস সওমু’ বা ‘ সওম’। সওমের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। শরয়ী ভাষায়, জ্ঞ্যান বুদ্ধি সম্পন্ন মুসলমানের উপর সুবহে সাদিক অর্থাৎ দিনের একেবারে শুরুর অংশ থেকে একেবারে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযার নিয়তে পানাহার, স্ত্রী সহবাস এবং রোযা ভঙ্গকারী অন্যান্য কার্যাবলী থেকে বিরত থাকা। রোযা এমন একটি আমল যা হযরত আদম (আ) ও তাঁর উম্মত থেকে নিয়ে হযরত মুহাম্মাদ (সা) ও তাঁর উম্মত পর্যন্ত প্রত্যেকের উপরই ফরজ।
(রুহুল মা’আনি ২/৫৬)

আল্লাহ তা’আলা বলেন
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ كُتِبَ عَلَيْكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ-
অর্থাৎঃ হে ঈমানদারগন! তোমাদের উপর রোযা/সিয়াম ফরজ করা হয়েছে৷ যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছে। যাতে করে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।

তারাবীহ’র নামাজ
রাতে তারাবীহের নামাজ আদায় করা। রমজানের রাতের বিশেষ আমল হলো ক্বিয়ামে রমাদান তথা বিশ রাকাত তারাবী। এমাসের রহমত, মাগফিরাত লাভের জন্য এবং প্রতিশ্রুত সওয়াব অর্জনের জন্য তারাবীর নামাজের গুরুত্ব অনেক।
(আস সুনানুল কুবরা-৪৮০১)

কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত
হাদিসে এসেছে, হযরত জিব্রাইল (আ) শেষ প্রতি রাতে রাসূল সা.-এর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসূল সা. তাঁকে কুরআনুল কারীম শোনাতেন।
(বোখারী-১৯০২)

দান করা
দান-সদকা সর্বাবস্থায়ই উৎকৃষ্টতর আমল, কিন্তু এমাসে তার গুরুত্ব অনেকগুণ বেড়ে যায়। ‘রাসূল সা. দুনিয়ার সকল মানুষ অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন। রমজানে তাঁর দানের হাত আরো প্রসারিত হতো।
(বোখারী-১৯০২)

বেশি বেশি নফল এবাদত করা
বোখারী শরীফের এক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এমাসে বিতাড়িত শয়তান বন্দী থাকে। তাই এই সুযোগে বেশি বেশি নফল এবাদত করাই আমাদের কাম্য।
(বোখারী- ১৮৯৮)

দো’আ করা
যেহেতু এমাসে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়ারা’আলা এমাসে বহুসংখ্যক গোনাহগারকে জান্নাতে দাখিল করবেন তাই এমাসে বেশি দো’আ করা উচিৎ।

ই’তিকাফ করা
হাদীসে পাকে এসেছে, ‘নবী করীম (সা) রমযানের শেষ দশ দিন ই’তিকাফ করতেন।
(বোখারী-২০২১,মুসলিম-১১৭১)

শবে কদর খোঁজ করা
আল্লাহ তা’আলা বলেন
إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ – وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ – لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ – تَنَزَّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ – سَلَٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ –
অর্থাৎ, ‘নিশ্চয়ই আমি শবে ক্বদরে কোরআন অবতীর্ণ করেছি। আপনিকি জানেন শবে ক্বদর কি? শবে ক্বদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এ রাতে ফেরেশতা ও জিব্রাইল (আ) তাঁদের পালনকর্তার আদেশক্রমে সকল মঙ্গলময় বস্তু নিয়ে (পৃথিবীতে) অবতারণ করেন, এ রাতের সম্পূর্ণটাই শান্তি যা ফজর হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
(সূরা ক্বদর)

আগামী ২০ রমজান লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আলাদা একটি টিউটোরিয়াল করবো ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহতালা আমাদের সবাইকে রমজান মাস সহ সারা বছর আমল করার তৌফিক দান করুন। আজ এই পর্যন্তই সবাই ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন কথা হবে আগামী টিউটোরিয়ালে, আল্লাহ হাফেজ।
Share on This
2 weeks ago (May 10, 2019) 98 Views

3 responses to “পবিত্র রমজান মাসের মূল্যায়ন এতো বেশি হওয়ার কারণ আমল এবং ফযিলত”

  1. Arman HossainArman Hossain(administrator)

    খুব ভালো এবং শিক্ষনীয় একটি পোষ্ট

  2. Al amin(contributor)

    Good post

  3. অসাধারন পোস্ট

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts